ভিনেগার এসিটিক এসিডের (CH3COOH) ৬-১০% ও পানির মিশ্রণে তৈরি | চিনি বা ইথানলকে গাজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসিটিক এসিডে পরিণত করা হয়। এটি সাধারণতঃ রান্নাকর্মে ব্যবহৃত হয়। এটি মদ কিংবা আপেলের রস দিয়ে উৎপন্ন এলকোহল, ফলের রস ইত্যাদি জাতীয় তরল পদার্থ সহযোগে ভিনেগার তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। উক্ত তরলে ইথানল দ্রবীভূত হয়ে ভিনেগারে রূপান্তরিত করে। নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করেও এটি প্রস্তুত হয়।
রান্নাকর্মে প্রায়শঃই আচার-চাটনী ও সালাদে এটি ব্যবহার করা হয়। ইতালীয় রান্নায় ভিনেগার, তৈল এবং লবণ আবশ্যকীয় উপাদান হিসেবে বিবেচিত। গৃহস্থালী পরিস্কার, পুড়ে যাওয়া, চিকিৎসায় পথ্য ইত্যাদি বহুবিধ ক্ষেত্রে এর স্বার্থক প্রয়োগ ঘটেছে।
ইতিহাস
ভিনেগার হাজার হাজার বছর পূর্বে তৈরি করা হয়েছে এবং মানুষের দ্বারা ব্যবহৃত। ৩০০০ খ্রি.পূর্বে মিশরে এটি পাওয়া যায়।
প্রকারভেদ
1. সাধারন ভিনেগার
2. Apple cyder vineger
ব্যবহৃত উপাদান
ভিনেগারে বিভিন্ন রকমের ফলমূল যেমন: আপেল, আঁখ, নারিকেল, খেজুর, নাশপাতি, টমেটো; শস্য হিসেবে চাউল, গম সহ মধু দিয়ে প্রস্তুত করা হয়। এ সকল ফল বা শস্যের নামানুসারে ভিনেগারের নামকরণ করা হয়ে থাকে। অধিকাংশ ফলের ভিনেগার ইউরোপে প্রস্তুত করা হয়। স্বতন্ত্র ফল দিয়ে প্রস্তুত এ সকল ভিনেগার উচ্চ মূল্যে বিক্রয়ের আদর্শ বাজার হিসেবে চিহ্নিত।[৪] এছাড়াও, কোরিয়া, চীনেও ফল দিয়ে ভিনেগার প্রস্তুত করে থাকে।
স্বাদ অক্ষুণ্ন ও গন্ধযুক্ত করতে মশলাজাতীয় উপাদানের প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জগুলো সামুদ্রিক খাবারের স্টলে ভিনেগারের মধ্যে মরিচ ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে। মিষ্টিজাতীয় ভিনেগার ক্যান্টনিজ উদ্ভূত যা চাউল ও চিনির সাথে আদাজাতীয় মসলা ব্যবহার করা হয়।
তথ্যসূত্র
Das, Bhagwan; Sarin, J. L. (১৯৩৬)। "Vinegar from Dates"। Industrial & Engineering Chemistry। 28 (7): 814। doi:10.1021/ie50319a016।
Forbes, Robert James (১৯৭১)। "Studies in Ancient Technology"।
Holzapfel, Lisa Solieri, Paolo Giudici, editors ; preface by Wilhelm (২০০৯)। Vinegars of the world (Online-Ausg. সংস্করণ)। Milan: Springer। পৃষ্ঠা 22–23। আইএসবিএন 9788847008663। Cleopatra dissolves pearls in vinegar [...] vinegar is quite often mentioned, is the Bible, both in the Old and in the New Testament.
"What is Fruit Vinegar?". vinegarbook.net. Retrieved June 10, 2010বিষয়শ্রেণী: মসলা
=====================
আপেল সিডার ভিনেগারের ৩০টি উপকারিতা সমূহঃ
আধুনিক রন্ধন প্রক্রিয়ায় আপেল সিডার ভিনেগার একটি অন্যতম উপাদান। এর রয়েছে অসাধারণ স্বাস্থ্যকরী গুণ। মজার ব্যাপার হচ্ছে রান্নার কাজ ছাড়াও রূপপচর্চা, গৃহস্থালির নানা কাজে আপেল সিডার ভিনেগারের বহুমুখী ব্যবহার হয়ে থাকে।
এর মধ্যে জিনিসপত্র পরিষ্কার, চুল ধোয়া, খাবার সংরক্ষণ এবং ত্বকের উন্নয়নে এটি চমৎকার কাজ করে। বিভিন্ন ধরনের রেসিপি, সালাদ, স্যুপ, সস, গরম পানীয় এবং অন্যান্য কাজেও আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহ্রত হয়।
আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করে চমৎকার ফলাফল পাওয়া যায় এমন ৩০টি উপায় ঢাকাটাইমস পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
১. রক্তে শর্করা পরিমাণ নিয়ন্ত্রণঃ
আপেল সিডার ভিনেগার ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার গ্রহণের পর আপেল সিডার ভিনেগার খেলে ৩৪ শতাংশ ইনসুলিন সংবেদনশীলতার উন্নয়ন করে এবং রক্তে শর্করা পরিমাণ পর্যাপ্ত কমায়। তবে আপনি যদি ডায়াবেটিসের ওষুধ খান তাহলে আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার আগে অবশ্য চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
২. পেট পরিপূর্ণ রাখেঃ
ওজন নিয়ন্ত্রণে অনেক সময় আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কারণ এটি খেলে ক্ষুধা কম লাগে। কিছু সংক্ষিপ্ত গবেষণায় বলা হয়েছে, আপেল সিডার ভিনেগার কম ক্যালোরি গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং পেটের চর্বি কমায়।
৩. খাবার সংরক্ষণঃ
অন্যান্য ভিনেগারের মতো আপেল সিডার ভিনেগারও খাবার সংরক্ষণে চমৎকার কাজ করে। আচার তৈরি এবং খাবার সংরক্ষণে মানুষ হাজার বছর ধরে ভিনেগার ব্যবহার করে আসছে। খাবার অ্যাসিড বাড়াতে কাজ করে আপেল সিডার ভিনেগার। আর এটি খাবারের এনজাইম নিষ্ক্রিয় করে এবং ব্যাকটেরিয়ারে মেরে ফেলে। এর ফলে খাবার পচে না।
৪. দুর্গন্ধনাশকঃ
আপেল সিডার ভিনেগার ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী উপাদানের কারণে সুপরিচিত। এই কারণে দাবি করা হয়ে থাকে, দুর্গন্ধ দূর করতে আপেল সিডার ভিনেগার চমৎকার কাজ করে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো গবেষণা নেই। আপনি চাইলে পানির সঙ্গে আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে ডিওডরেন্ট স্প্রে তৈরি করে দেখতে পারেন। দুর্গন্ধ দূরকারী প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে আপেল সিডার ভিনেগারের বেশ সুনাম রয়েছে।
৫. সালাদ তৈরিঃ সহজ উপায়ে ঘরে সালাদ তৈরি করতে চাইলে আপেল সিডার ভিনেগার একটি ভালো উপাদান। এটি সালাদের স্বাদ বাড়াতেও সাহায্য করে।
৬. ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়ঃ
আপেল সিডার ভিনেগার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়- বিভিন্ন গবেষণায় প্রায়শই এমন দাবি করা হয়ে থাকে।
পরীক্ষাগারের গবেষণায় দেখানো হয়েছে, ক্যানসারের কোষ হত্যায় ভিনেগার কাজ করে। কিছু পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় বলা হয়েছে, খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে আপেল সিডার ভিনেগার কাজ করে। তবে এসব গবেষণার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়নি।
৭. পরিষ্কারকঃ আপেল সিডার ভিনেগার প্রাকৃতিক পরিষ্কারক হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। এর কারণ হচ্ছে, এর ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী উপাদান। এক কাপ পানির সঙ্গে আধা কাপ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি দিয়ে আপনি সব ধরনের পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।
৮. গলার স্বর ঠিক রাখতেঃ
গলার স্বর ভেঙ্গে গেলে তা ঠিক করতে আপেল সিডার ভিনেগারের ব্যবহার একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া পদ্ধতি। মনে করা হয়, এটি অ্যান্টি ব্যকটেরিয়া, যার দ্বারা গলায় সমস্যা তৈরি করা ব্যকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করা যায়। তবে এর পক্ষে কোনো শক্ত প্রমান নেই।
তবে আপনি যদি এটি ব্যবহার করতে চান তাহলে কুলকুচি করার আগে অবশ্যই পানি মিশিয়ে নিবেন। কারণ আপেল সিডার ভিনেগার এক ধরণের অ্যাসিড। তাই পানি না মেশালে গলা পুড়ে যেতে পারে।
৯. ত্বক পরিচর্যার ক্ষেত্রেঃ
আপেল সিডার ভিনেগার ত্বক মসৃণ করতে সাহায্য করে এবং ব্রণসহ চামড়ার যে কোনো সমস্যা দূর করে। এছাড়া বয়সের ছাপ কমিয়ে আনতে এটি অত্যন্ত কার্যকরি। এ কারণে অনেকেই ত্বক পরিচর্যার ক্ষেত্রে আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করে।
তিন ভাগের দুইভাগ পানি এবং একভাগ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে তুলা দিয়ে হালকা করে মুখে ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু যদি কারো ত্বক বেশি সংবেদনশীল হয় তাহলে পানির পরিমাণ একটু বাড়িয়ে দিতে হবে।
১০. ঘরের কিটপতঙ্গ মারার ফাঁদ হিসেবেঃ
আপেল সিডার ভিনেগার ঘরের কিট পতঙ্গ মারার ফাঁদ হিসেবে খুব সহজে ব্যবহার করা যায়। একটি কাপে আপেল সিডার ভিনেগার ঢালুন এবং তাতে কয়েক ফোটা বাসন পরিস্কার করার সাবান মিশিয়ে দিন। এরপর এটাতে পোকা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মারা যাবে।
১১. ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ করতেঃ
ডিম সিদ্ধ করার সময়ে পানিতে একটু আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে দিন। তাহলে ডিম খুব দ্রুত ভালোভাবে সিদ্ধ হবে।
কারণ, ডিমের সাদা প্রোটিনে ভিনেগারের অ্যাসিডের কারণে তেজস্ক্রিয়তা তৈরি করে এবং তা ভালোভাবে সিদ্ধ হতে সাহায্য করে। এছাড়া ডিম সাদা রাখতে এবং ভাজার সময় হালকা ভিনেগার ব্যবহার করলে তা আরো সুন্দর হয়।
১২. খাবার সুস্বাদু করতেঃ
এছাড়া খাবার সুস্বাদু করতে রান্নার সময় আপেল ভিনেগার ব্যবহার করা হয়। মাংসের স্টেককে আরো সুস্বাদু করতে এটি জনপ্রিয় উপাদান। এটি মাংসে চমৎকার মিষ্টি এবং টক স্বাদ তৈরি করে।
এছাড়া স্টেককে আরো সুস্বাদু গন্ধ দিতে আপেল ভিনেগারের সাথে ওয়াইন ভিনেগার, রসুন, সয়া সস, পেঁয়াজ এবং গোলমরিচ মেশানো যেতে পারে।
১৩. ফলমূল বিষমুক্ত করতেঃ
কিনে আনা ফলমূলে কীটনাশক পদার্থ থাকতে পারে। এছাড়া ফরমালিনের মতো বিষাক্ত পদার্থও থাকতে পারে। এজন্য অনেকে এসব ফলমূল বা শাক-সবজি বিষমুক্ত করতে আপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে ধৌত করে।
যদিও এটি ফলমূলকে পুরোপুরি বিষমুক্ত করতে পারে না তবে শুধু পানি দিয়ে ধৌত করার চেয়ে এটি অধিক কাজ দেয়। এছাড়া খাবারের বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া দূর করে আপেল সিডার ভিনেগার।
উদাহরণ স্বরূপ, ভিনেগার দিয়ে ধৌত করা খাবার থেকে ই কোলি এবং সালমোনেলার মত বিপদজনক ব্যাকটেরিয়া দূর হয়েছে।
১৪. দাঁত পরিষ্কার করতেঃ
আপনি দাঁত পরিষ্কার করতেও আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। এটি দাঁত এ জমে থাকা দাগ ও হলদে ভাব দূর করে সাথে মুখে জমে থাকা অনুজীব দূর করে থাকে। যদিও দাঁত পরিষ্কারের সেরা পদ্ধতির বিষয়ে দ্বীমত রয়েছে। মনে করা হয়, আপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করলে অন্য সব দাঁত পরিষ্কারের উপাদান থেকে মুখের ভিতরে কম ক্ষতি হয়।
১৫. গোসলের সময়ঃ
যে কারণে মানুষ আপেল সিডার ভিনেগার মুখের ত্বকচর্চায় ব্যবহার করে ঠিক একই কারণে এটি গোসলের সময়ও ব্যবহার করা যায়। ত্বক মসৃন ও সমস্যামুক্ত রাখতে আপেল সিডার ভিনেগার অত্যন্ত কার্যকরি।
আপনি গোসলের জলের ভিতর ১/২ কাপ আপেল সিডার ভিনেগার ঢেলে দিন। এবং গোসল করুন। এতে আপনার শরীরের ত্বক অত্যন্ত ভালো থাকবে।
১৬. চুলের যত্নেঃ
আপেল সিডার ভিনেগার চুলের যত্মেও ব্যবহার করা যায়। এটি দিয়ে চুল ধুলে চুল পড়া বন্ধ হয় এবং চুল লম্বা হয় ও উজ্জল দেখায়।
দুই ভাগের একভাগ পানি এবং একভাগ ভিনেগার ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে দিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। আর যদি আপনার মাথার ত্বক সংবেদনশীল হয় তালে ভিনেগারের মধ্যে বেশি করে পানি মিশিয়ে নিন। কারণ এটি অ্যাসিডযুক্ত।
১৭. খুশকি কমাতেঃ
হালকা পানি ও ভিনেগার মিশিয়ে তা দিয়ে মাথা মাসাজ করলে খুশকি কমার সম্ভাবণা রয়েছে। পরিষ্কার নয় যে এটি কিভাবে কাজ করে। তবে ডাক্তারি তত্ত্বের মতে, ভিনেগারের অ্যাসিড মাথার ত্বকে মালাসেজিয়া নামক ছত্রাক প্রতিরোধ করে। যে ছত্রাক খুশকি বিস্তারে সহায়তা করে।
১৮. সস হিসেবেঃ
সস হিসেবে আপেল সিডার ভিনেগার হতে পারে আপনার খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে দেয়ার অন্যতম উপাদান। টমেটো সসের সাথে অল্প করে ভিনেগার মেশালে এটি খাবারকে আরো স্বাদযুক্ত করে দেয়।
১৯. স্যুপের মধ্যেঃ
স্যুপের মধ্যে আপেল সিডার ভিনেগার দেয়া যেতে পারে। এতে স্যুপের স্বাদ আরো কয়েকগুণ বেড়ে যায়। যদি ঘরে তৈরি স্যুপের স্বাদ আরো বাড়িয়ে নিতে চান তাহলে রান্নার শেষের দিকে অল্প করে ভিনেগার মিশিয়ে দিন।
২০. আগাছা বিনাশ করার জন্যঃ
আপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে ঘরেই তৈরি করতে পারেন আগাছা বিনাশ করার ঔষধ। এরপর এটি বাড়ির বাগানের আগাছার উপর স্প্রে করে দিলে সেগুলো মরে যাবে। এছাড়া এর মধ্যে সাবান ও লেবুর রস মেশালে তা আরো কার্যকরী হবে।
২১. ঘরে কেক ও ক্যান্ডি তৈরি করতেঃ
ঘরে কেক ও ক্যান্ডি তৈরি করার সময় এর স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়িয়ে তুলতে আপেল সিডার ভিনেগার ব্যহার করা যায়। এটি ঘরে তৈরি এসব জিনিসকে আলাদা স্বাদ প্রদান করে।
ঘরে কেক ও ক্যান্ডি তৈরি করার সময় এর স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়িয়ে তুলতে আপেল সিডার ভিনেগার ব্যহার করা যায়। এটি ঘরে তৈরি এসব জিনিসকে আলাদা স্বাদ প্রদান করে।
২২. ব্যতিক্রমী গরম পানীয় তৈরি করতেঃ
একটি ব্যতিক্রমী গরম পানীয় তৈরি করতে ১২ আউন্স (৩৫৫ মিলি) গরম পানিতে আপেল সিডার ভিনেগার ২ টেবিল চামচ, দারুচিনি ১ চা চামচ, ১ চামচ মধু এবং ২ টেবিল চামচ লেবুর রস দিতে হবে। এর স্বাদ অসাধারণ
২৩. মুখ পরিষ্কারের জন্যঃ
আপেল ভিনেগারকে মুখ পরিষ্কার করার জন্য কার্যকরী উপাদান হিসেবে মনে করা হয়। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান মুখের শ্বাসের গন্ধ দূর করে।
যদি আপনি এটা করতে চান তাহলে অবশ্যই তা পানির সাথে মিশিয়ে নিবেন। এক কাপ বা ২৪০ মিলি পানির সাথে এক টেবিল চামচ ভিনেগার নিতে পারেন। সরাসরি ভিনেগার মুখের ভিতর ব্যবহার করলে দাঁত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২৪. দাঁত পরিষ্কারের ব্রাশ পরিষ্কার করতেঃ
আমরা দাঁত পরিষ্কার করার জন্য ব্রাশ ব্যবহার করি। কিন্তু কিছুদিন ব্যবহারের পর ব্রাশের ভিতরে অপরিষ্কার হয়ে যায়। তখন এ ব্রাশ পরিষ্কারের জন্য আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করা যায়।
ঘরে বসে টুথব্রাশ ক্লিনার যেভাবে বানাবেন- ১২০ মিলি পানি, ২ টেবিল চামচ ভিনেগার এবং দুই টেবিল চামচ বেকিং সোডা ভালোভাবে মেশালেই এটি তৈরি হয়ে যাবে।
২৫. দাঁত সাদা করার জন্যঃ
আপেল সিডার ভিনেগার হলো অ্যাসিডযুক্ত। তাই অনেকে দাঁতের দাগ দূর করতে এবং দাঁত আরো সাদা করতে আপেল ভিনেগার ব্যবহার করে থাকে। আপনি এটি করতে চাইলে, একটু তুলা ভিনেগারে ভিজিয়ে দাঁতের উপর হালকা করে লাগান।
আপেল সিডার ভিনেগার হলো অ্যাসিডযুক্ত। তাই অনেকে দাঁতের দাগ দূর করতে এবং দাঁত আরো সাদা করতে আপেল ভিনেগার ব্যবহার করে থাকে। আপনি এটি করতে চাইলে, একটু তুলা ভিনেগারে ভিজিয়ে দাঁতের উপর হালকা করে লাগান।
তবে এ কাজটি করতে গেলে খুব সাবধানে করতে হবে। কারণ আপেল সিডার ভিনেগারের অ্যাসিড দাঁতের গোড়ায় লাগলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২৬. ব্রণ দূর করতেঃ
অ্যাপেল সিডার ভিনেগার এর আন্টিব্যাক্টেরিয়াল প্রভাব প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে। যা মুখে ব্রণের বৃদ্ধি কমিয়ে আনে এবং ব্রণ দূরীকরণে সাহায্য করে। এর এসিড মুখের পি এইচ এর মাত্রা ঠিক রাখে এবং অন্যান্য দাগ দূর করতে সহায়তা করে।
অ্যাপেল সিডার ভিনেগার এর আন্টিব্যাক্টেরিয়াল প্রভাব প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে। যা মুখে ব্রণের বৃদ্ধি কমিয়ে আনে এবং ব্রণ দূরীকরণে সাহায্য করে। এর এসিড মুখের পি এইচ এর মাত্রা ঠিক রাখে এবং অন্যান্য দাগ দূর করতে সহায়তা করে।
২৭. আঁচিল দুর করতেঃ
আঁচিল দুর করতে কাজ করে আপেল সিডার ভিনেগার। প্রাকৃতিকভাবে আঁচিল দূর করতে ভিনেগারের অ্যাসিড খুব কার্যকরী।
আঁচিল দুর করতে কাজ করে আপেল সিডার ভিনেগার। প্রাকৃতিকভাবে আঁচিল দূর করতে ভিনেগারের অ্যাসিড খুব কার্যকরী।
তবে এ পদ্ধতিতে আঁচিল দূর করা খুব কষ্টদায়ক। তাই আঁচিল দূর করার ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করতে চাইলে খুব সাবধানে করতে হবে।
২৮. প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্ট হিসেবেঃ
নিজেকে আকর্ষণীয় করতে তুলতে নানা রকম সুগন্ধী ব্যবহৃত হয়। তবে বাড়িতেই খুব ভালো প্রাকৃতিক সুগন্ধী বা ডিওডোরেন্ট তৈরি করা যায়। যার মূল উপাদানই হলো আপেল সিডার ভিনেগার।
নিজেকে আকর্ষণীয় করতে তুলতে নানা রকম সুগন্ধী ব্যবহৃত হয়। তবে বাড়িতেই খুব ভালো প্রাকৃতিক সুগন্ধী বা ডিওডোরেন্ট তৈরি করা যায়। যার মূল উপাদানই হলো আপেল সিডার ভিনেগার।
২৯. বাসন পরিষ্কারক হিসেবেঃ
বাসার থালা বাসন আরো ভালোভাবে পরিষ্কার এবং এর ব্যাকটেরিয়া দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী আপেল সিডার ভিনেগার। বাসন পরিষ্কার করা সাবানের সাথে একটু ভিনেগার মিশিয়ে নিলেই এমন উপকার পাওয়া যায়।
বাসার থালা বাসন আরো ভালোভাবে পরিষ্কার এবং এর ব্যাকটেরিয়া দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী আপেল সিডার ভিনেগার। বাসন পরিষ্কার করা সাবানের সাথে একটু ভিনেগার মিশিয়ে নিলেই এমন উপকার পাওয়া যায়।
৩০. মশা মাছি থেকে পরিত্রাণ পেতেঃ
দুইভাগের একভাগে পানি এবং এক ভাগে আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে সারা ঘরে স্প্রে করলে মশা মাছি দূরে থাকবে। এবং পরিবেশ সুন্দর রাখবে।
আপেল সিডার ভিনেগার ঘরোয়া কাজের ক্ষেত্রে একটি বহুল ব্যবহৃত উপাদান। এটি ঘরে থাকলে অনেক সমস্যার খুব দ্রুত সমাধান করা যায়।
ভিনিগারের অপকারিতা
শরীর, ত্বক, চুলের যত্ন, ওজন কমানো বা বিভিন্ন রান্নায় আপেল সিডার ভিনেগারের ব্যবহার করা হয়। এই আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহারের সময় কিছু বিষয় লক্ষ রাখতে হয়। না হলে হতে পারে বিপত্তি।
সাবধানতা
- ত্বক সংবেদনশীল হলে জলের সঙ্গে মিশিয়ে আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করতে হবে।
- দাগ দূর করে দাঁত সাদা করতে আপেল সিডার ভিনেগার বেশ কাজে দেয়। কিন্তু ভিনেগারের অ্যাসিড দাঁতের গোড়ায় লাগলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তুলোর বলে ভিনেগার নিয়ে দাঁতে হালকা করে লাগাতে হবে।
- খাওয়ার আধাঘণ্টা আগে বা পরে এটি পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
- রাতে ঠিক ঘুমানোর আগেই আপেল সিডার ভিনেগার পান করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এটা থেকে অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। তাই বিছানায় যাওয়ার অন্তত আধঘণ্টা আগে পান করুন।
- সরাসরি ভিনেগার পান না করে এক গ্লাস জলে আধা কাপ ভিনেগার মিলিয়ে পান করুন।

No comments:
Post a Comment